বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রাথমিকে আসছে মনিটরিং নীতিমালা, পরিমার্জিত হচ্ছে কারিকুলাম: ববি হাজ্জাজ

November 4, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 3 বার পঠিত

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিমার্জিত কারিকুলাম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন মনিটরিং ব্যবস্থায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির পাশাপাশি তারা কতটুকু শিখছে, পাঠদানের মান কেমন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম কতটা কার্যকর, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শিখন চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ চলছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের প্রতি শিক্ষকদের যত্ন, বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ শিক্ষার পরিবেশ বদলে দিতে পারে। সরকার এরইমধ্যে দেশের ১০০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু করেছে। আগামী বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাধবপুর উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) শতাধিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে ডব্লিউএফপির কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও পার্থক্য সরেজমিনে পর্যালোচনা করাও এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, কোথায় কী ধরনের ভালো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, কোন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের বাড়তি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে এবং কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ডব্লিউএফপির অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কার্যকর ও উপযোগী উদ্যোগগুলো সরকারি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

পরে প্রতিমন্ত্রী জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম পরিমার্জনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শিখন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কারিকুলামে বিদ্যালয়ভেদে শিখন ঘণ্টার বৈষম্য দূর করা, প্রতিটি বিষয়ের পাঠদান ও শিখন উপকরণকে আরও বিজ্ঞানসম্মত, সহজবোধ্য ও বয়সোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অনুধাবন ও দক্ষতা অর্জন, নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন শুধু বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে প্রকৃত অর্থে শিখছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা, পাঠদানের মান, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম ও জবাবদিহিসহ সব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

পরিদর্শনের সময় ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড এবং স্কুল ফিডিংবিষয়ক প্রোগ্রাম পলিসি অফিসার এমা লেফু উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *