বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

১০ মাস ধরে বেতন নেই, দুর্ভোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৭ টিকা বহনকারী

May 19, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 27 বার পঠিত

লিটন হোসাইন জিহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: টানা ১০ মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৭ জন টিকা বহনকারী (পোর্টার)। ধারদেনা করে পরিবার চালাতে হচ্ছে তাদের। আর্থিক সংকটে অনিশ্চয়তায় পড়েছে সন্তানদের পড়াশোনাও।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বন্ধ থাকলেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। প্রতিদিন দুর্গম এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে টিকা পৌঁছে দিয়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এসব কর্মী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার টিকা বহনকারী নাহিদ মিয়া বলেন, “বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে আমার ছয় সদস্যের সংসার। কিন্তু ১০ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। তারপরও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।”

জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বকেয়া বেতনের দাবিতে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি দেন টিকা বহনকারী কর্মীরা। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি মাসে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা করে বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নতুন টিকা সংযুক্ত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে পোর্টারদের দায়িত্বও বেড়েছে। পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার প্রতিরোধ, হেপাটাইটিস-বি, এমআর, পিসিভি ও আইপিভিসহ বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেতন পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অর্থ ছাড় হলে দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *