বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

নাসিরনগরে অটোরিকশাচালক আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন \ তিন আসামী গ্রেপ্তার

November 3, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 14 বার পঠিত


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে চাঞ্চল্যকর অটোরিকশাচালক আরজান মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহ (১৯) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামিসহ এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামিকে সাথে নিয়ে ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে নাসিরনগরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মোঃ তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫)। তিনি জেলার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের মোঃ সেন্টু মিয়ার ছেলে।
এর আগে গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কসবা উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হত্যাকান্ডে জড়িত অপর দুই আসামি শিহাব হোসেন চৌধুরী ও রাহাব আলী জুয়েলকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যারা ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত অপর আসামি মোঃ মাহফুজুর রহমান রিমানকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নাসিরনগর সরকারি কলেজের সামনে কাশবনের ভেতর থেকে চোখ, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো এবং পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের মোঃ আউয়ালের ছেলে আরজান মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার স্ব-উদ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহণ করেন এবং এসআই মোঃ শাহাদাত হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
তথ্যপ্রযুক্তি এবং নিবিড় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি তানভীরকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে গা শিউরে ওঠা তথ্য বেরিয়ে আসে। তানভীর জানায়, সে এবং তার সহযোগী সুয়েব মিয়া ও মাহফুজুর রহমান রিমান মিলে আব্দুল্লাহকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা ১ হাজার টাকায় আব্দুল্লাহর অটোরিকশাটি লাখাইয়ের বামৈ বাজার থেকে রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে নাসিরনগরের সাহেব বাড়ি এলাকায় আসে। এরপর সুয়েব ও রিমান চালক আব্দুল্লাহর হাত-পা চেপে ধরে এবং সুয়েব গলায় চাপ দিয়ে ও মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে নির্মমভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকান্ড শেষে লাশ কাশবনে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং ইতিপূর্বে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িত অপর পলাতক আসামি সুয়েব মিয়াকে গ্রেপ্তারে পিবিআই-এর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *