বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষা আন্দোলনের ডাকই ছিল স্বাধীনতার সূতিকাগার

November 3, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 6 বার পঠিত


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ভাষা আন্দোলনের পথিকৃত ও মহান মুক্তিযদ্ধের অন্যতম শহিদ বুদ্ধিজীবী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪১ জন্মদিন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকেলে অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুন নূরের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বনিক।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোঃ জামাল, অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. অরুনাভ পোদ্দার, কমরেড প্রদে্যুৎ নাগ, শিক্ষিকা শামীমী সিকদার দীনা প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার যে বীজ রোপিত হয়েছিল, তার অন্যতম অগ্রপথিক ছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তাঁর ভাষা আন্দোলনের ডাকই ছিল স্বাধীনতার সূতিকাগার। অথচ জাতীয় জীবনে এই মহান ব্যক্তিত্বের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁকে মূল্যায়নের পাশাপাশি তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেই নেতৃত্ব দেননি, বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির পথও দেখিয়েছেন। তাঁর জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাঁর নামে স্মৃতিচিহ্ন, পাঠাগার ও গবেষণামূলক উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনেরও দাবি জানান তাঁরা।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ-
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী ও ভাষাসংগ্রামী। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রæয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন তিনি। তাঁর সেই ঐতিহাসিক প্রস্তাব থেকেই পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নতুন গতি পায়। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তিনি শহীদ হন।
অনুষ্ঠানে অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *