বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

উঠে দাঁড়িয়েছে দাবি করা সেই গাছ কেটে ফেললো প্রশাসন

June 5, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 125 বার পঠিত

ঝড়ে প্রায় এক মাস আগে শেকড়সহ মাটিতে পড়ে যায় গাছটি। ডালপালা কাটাসহ গাছের অনেকাংশ কেটে ফেলা হয়। এরইমধ্যে গত এক সপ্তাহ আগে আবার গাছটি দাঁড়িয়ে যায়।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার এমন একটি গাছ নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়। উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের ভাইরাল সেই গাছটি অবশেষে কেটে ফেলা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি কেটে ফেলা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তাই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় কেটে দেওয়া হয়েছে। গাছটির কিছু অংশ কাটার বাকি ছিল। সেটি হেলে পড়েছিল কিনা সেটা জানা নেই। আমরা গাছের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনি কাটার বিষয়ে মত দেন। গাছ বিক্রির টাকা অনুদান হিসেবে মসজিদ বা মাদরাসায় দেওয়ার কথা বলেছেন। নয়তো মসজিদ বা মাদরাসার কেউ এটা নিতে পারবেন।

এদিকে, গাছটিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। গাছটি ঘিরে মাজার করা হবে বলে অনেকে তা কাটার জন্য অনুরোধ জানান। কেউ কেউ এটাকে অলৌকিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার বড় বাজারের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ মির্জা মারুফ নামে একজন ফেসবুকে লিখেন, এটাকে দ্রুত কেটে সরিয়ে নেয়া উচিত। নইলে এখানে গেছুশাহের মাজার নির্মিত হবে। এরকম একটি গাছ শ্রীকাইলে হয়েছিল। এটা কোনো অস্বাাভাবিক ঘটনা নয়। গাছের গোড়া অর্ধেক কাটা আর ডালপালা কেটে দেয়ায় সোজা হয়ে গেছে।

ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ আবার নিজে নিজে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অলৌকিক কিছু নয় বরং এটি মূলত গাছের মূলের টান, মাটির স্থিতিস্থাপকতা এবং গাছের অভ্যন্তরীণ রসের চাপের (Hydrostatic Pressure) কারণে ঘটে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি কোনো রহস্যময় ভর উত্তোলন নয়। ঝড়ের চাপ দূর হওয়ার পর উদ্ভিদের শিকড়ের ইলাস্টিক শক্তি বা স্থিতিস্থাপকতার কারণেই গাছটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে!

জিলানী বাগদাদি নামে একজন লিখেছেন, অনেকে, বিজ্ঞান দেখাচ্ছে! তবে নিশ্চয়ই খোদার কেরামত বা কোনো রহস্য আছে! সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। তবে গাছকে পূজা/তাবিজ/মানত এগুলো হারাম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গাছটি উচ্চতায় প্রায় ১৫ ফুটের মতো ওই অংশটি কিছুটা সামনের দিকে হেলে পড়া। গাছের নীচের কয়েক ইঞ্চি বাদে বাকিটা গুড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন। আগের মতোই শেঁকড়সহ গুড়ার অংশ মাটির উপর ও নীচে দেখা যাচ্ছে। গাছের কাটা অংশ সামনেই ফেলে রাখা। গাছের নীচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে পেঁচানো ছিল। ইতোমধ্যে অনেকেই মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়েছেন। চারদিকে নিশানা টানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এলাকার মানুষ বলছেন, ঘটনাটি অলৌকিক। সৃষ্টিকর্তার ইশারাতেই এমন হয়েছে।

গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, আল্লাহ ভালো জানেন কিভাবে কি হয়েছে? এখন গাছ দেখতে প্রতিদিন শত শত লোক এসেছে। মানত করেন। আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালিয়েছে। অনেকে শিকড় নিয়েছে।

কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, গাছটি ঝড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শেঁকড়সহ উল্টে যায়। ডালা কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যায়। গোড়া কয়েক ইঞ্চি জায়গা কেটে দিলে এটি পড়ে যাবে। এখানে জিন-ভূত বলে কিছু নেই। তবে মানুষ ভিড় করছে গাছটি দেখতে।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *