বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

পরাজয়ের ভয়ে কেন্দ্র দখলের পায়তারা করছে একটি পক্ষ: জামায়াত আমির

February 9, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 33 বার পঠিত

বিজয় না পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসাতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, একটি পক্ষ ও পরিবার জয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছে। নির্বাচনে হারের ভয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। নির্বাচনে কারচুপি হলে ক্ষমা করা হবে না বলে প্রশাসন-পুলিশকে হুঁশিয়ার করেছেন জামায়াত আমির।

আজ সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহে ঢাকা-১৩ আসনে জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেছেন জামায়াত আমির। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে জয়ী হলে মন্ত্রী হবেন মামুনুল হক। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনিও নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, কারচুপি হলে ছাড় দেওয়া হবে।

জামায়াত আমির জনসভায় সমাবেগতদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এখন থেকেই ভোট পাহারা শুরু করতে হবে। জালিয়াত, ভোটচোর, অবৈধ ইঞ্জিনিয়াদের জনগণের কপাল নিয়ে খেলতে চাইলে, রুখে দিতে হবে। বিজয়ের মালা গলায় পরিয়ে দিয়ে তারপর আপনারা ঘরে ফিরবেন।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে জনগণ তাদেরকে অতীতে দেখেছে। বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ অবশ্যই তাদেরকে সমর্থন করবে না। তারা জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবেন। যারা জনগণের পক্ষে, জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে আছে, তারাই বিজয়ী হবেন।

জামায়াত আমির বলেছেন, একটি পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। হতাশা থেকে চোরাই পথে নির্বাচনকে হাইজ্যাক করার চিন্তা করছে। গুন্ডাদের লেলিয়ে দিচ্ছে। অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল করে মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, তরুণরা ১২ ফেব্রুয়ারি একই রায় দেবে। কেউ যদি সেই দৃশ্য দেখে এখনই ভীত–সন্ত্রস্ত হয়ে চোরাই পথে পা বাড়ান, তাইলে জাতি ক্ষমা করবেন না। তাদেরকে সেদিকে চলতে দেবেন না।

আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘কিছু আমলা, সচিব, অসৎ লোক এখনো দলবাজি করছেন। বিভিন্ন প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। প্রার্থী জিতবে বা পরাজিত হবে, তা নির্ধারিত হবে জনগণের ভোটে। মনে রাখবেন ক্ষমা বারবার পাবেন না। অপরাধ করে অতীতে ক্ষমা পেয়েছেন, আগামীতে আর ক্ষমা করা হবে না।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিতর্কিত নির্বাচন করে দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার দুঃসাহস না দেখাতে সতর্ক করেছেন জামায়াত আমির। কেউ দুঃসাহস করলে পরিণতি ভালো হবে না হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, যদি আবার ফ্যাসিবাদের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়ার কেউ দুঃসাহস করেন, জুলাইতে যেমন ফ্যাসিবাদে রুখে দেওয়া হয়েছে, আগামীতেও রুখে দেওয়া হবে।

নির্বাচনে কারচুপি হলে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় জোট নেতা বলেন, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে নেই। সমস্ত অপকর্ম ইনশাআল্লাহ প্রতিহত করে দেব। জনগণের ভোট আবার কেউ ছিনতাই করবেন—এই দুঃসাহস দেখাবেন না।

১১ দল জুলাই আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার, সনদ বাস্তবায়ন এক হয়েছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেছেন, এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ এবং সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে। জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানেও ইন্টারনেট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যাতে অপরাধ গোপন করে খুনকে বৈধতা দেওয়া যায়। কার ইশারায় সেই একই অন্ধকার গলিপথে নির্বাচন কমিশন হাঁটার চেষ্টা করছে? এই অপকর্ম জুলাইয়ে মেনে নেওয়া হয়নি, এখন তো মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না।

ঢাকা-১৩ আসনকে মর্যাদাপূর্ণ আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, কিছু অসৎ লোক এই এলাকাকে বিভিন্নভাবে জর্জরিত করে রেখেছে। এখানে ব্যাপক হারে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলে। মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে। তরুণদের বিপথগামী করে দখলবাজি, মামলাবাণিজ্যতে নামানো হয়েছে। এই তরুণদের সংশোধন করা হবে।

ধর্ম–বর্ণ–লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন মেনে নেওয়া হবে না- প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, ইনসাফের বিজয় হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ হবে। সকল শ্রেণি-পেশা–লিঙ্গ–বর্ণের মানুষ, ধর্মের মানুষ সমতার ভিত্তিতে তাদের অধিকার ফিরে পাবে। রাষ্ট্রে আর বিভাজন মানব না।

ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, রিকশা জনগণের প্রতীক। তরুণ প্রজন্মের প্রতীক। নারী সমাজের প্রতীক।  আধিপত্যবাদবিরোধী জনগণের প্রতীক। মামুনুল জয়ী হলে দেশ ও ঢাকা-১৩ আসন মর্যাদাবান মন্ত্রী হবেন। যিনি সংসদে ইনসাফের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন।

সোমবার ঢাকা-১৫ আসনে নিজের জন্য ভোট চেয়ে গণমিছিল করেন জামায়াত আমির। হাজার হাজার নেতাকর্মীর মিছিল থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়া হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *