বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আখাউড়া পৌর এলাকার উন্নয়নে প্রায় ১৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প

October 18, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 14 বার পঠিত


স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার উন্নয়নে ১৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। Urban Climate Resilient Infrastructure Project (UCRIP)এর মাধ্যমে এ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত উপ-প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
ইউসিআরপি হলো এমন একটি উন্নয়ন প্রকল্প, যা শহর অঞ্চলের অবকাঠামোকে জলবায়ুু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি (যেমন অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যা, তীব্র গরম ও ঘূর্ণিঝড়) মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে নেয়া হয়। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে।
আখাউড়া পৌরসভা সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, হাঁটার রাস্তা, পুকুর পাড় উন্নয়ন, সড়ক বাতি, ডাম্পিং স্টেশন, পার্ক নির্মাণ ইত্যাদি উন্নয়ন করা হবে। দুই ধাপে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ১০০ কোটি ও পরের ধাপে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যেই বিশেষ বরাদ্দে কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সড়ক বাজার ও বড় বাজার এলাকার রাস্তার কাজ করা হয়েছে। কিচেন মার্কেট করা হয়েছে।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে পুরো পৌরসভার চেহারা। মানুষ আরো বেশি নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে। স্বস্থি আসবে নাগরিক জীবনে।
বর্তমান পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ চলমান আছে বলে উল্লেখ করেছেন। দ্রæত সম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টার কথা জানান তিনি।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে প্রায় ১২ কিলোমিটার ও দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হবে। প্রথম ধাপে ২৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ব্যয় করা হবে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ও দ্বিতীয় ধাপে ২০ কিলোমিটারে ব্যয় করা হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। প্রথম ধাপেই প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দুই দফায় ছয়টি পুকুর ও জলাশয়ের সৌন্দর্য্য বর্ধনে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। হাঁটার রাস্তা তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ২১টি সড়কে ২১১টি ও দ্বিতীয় ধাপে ২৮টি সড়কে ৩৮৯ টি সোলার লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে দুই ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় আট কোটি টাকা।
পৌরসভা আরো একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেটি হলো, উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে ঢাকা হোটেল পর্যন্ত কালন্দি খালের উপর বক্স কলভার্ট নির্মাণ। ওই কালভার্টে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড করা হবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের সামনে খালের বাড়তি অংশে সৌন্দর্য্যবর্ধন করা হবে।
পৌর প্রশাসক তাপসী রাবেয়া এ বিষয়ে বলেন, ‘এই আখাউড়া একটি প্রাচীন জনপদ। কিন্ত তেমন উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আখাউড়াবাসী একটি উন্নত ও নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন পরিবেশ পাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হকার্স মার্কেট, রেল স্টেশন থেকে বের হওয়ার রাস্তা, কিছু ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে ও কসাই খানার কাজ চলছে। যেসব ড্রেনে ¯ø্যাব ছিলো না সেগুলো দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আখাউড়া পৌর শহরকে ঢেলে সাজানোর ও নাগরিক জীবনকে আরো সহজ ও সুন্দর করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছে। শিগগিরই আমরা প্রথম প্রকল্পের টাকা পেয়ে যাবো। সারাদেশের চারটি পৌরসভা মধ্যে আখাউড়ার নাম প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *