বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

লাহোরে আজ জরুরি বৈঠক, কী পাবে বাংলাদেশ?

February 8, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 148 বার পঠিত

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে লাহোর গেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। মহসিন নাকভি-বুলবুলের এই বৈঠকে থাকার কথা সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের ইমরান খাজা ও আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের মোবাশ্বির উসমানিরও। মূলত পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়া আইসিসি এখন সমাধানের পথ খুঁজতে এই বৈঠকের মাধ্যমে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈঠক থেকে কী পাচ্ছে বাংলাদেশ।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে না যেতে চাওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে পাশে পেয়েছে বাংলাদেশ। তাদের সমর্থনে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। শেষ পর্যন্ত দেশটি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে বিশাল অঙ্কের ক্ষতি গুনতে হবে আইসিসিকে। বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই অঙ্কটা ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ চুক্তি বাতিল করতে পারে জিও স্টার। এমন কিছু হলে নিশ্চিতভাবেই মুখ থুবড়ে পড়বে আইসিসি। সংস্থাটির আয়ের সিংহভাগই আসে এই চুক্তি থেকে।

পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে শনিববার (৭ ফেব্রুয়ারি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। এরপরও স্বস্তিতে থাকার উপায় নেই আইসিসির। পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনার সব চেষ্টাই করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা। আইসিসি চিঠি চালাচালি এমনকি সরাসরি বৈঠকও করছে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে। তাতেও কাজের কাজ হয়নি। ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই সমাধানের পথ খুঁজতেই লাহোরে পিসিবি-বিসিবি-আইসিসির বৈঠকের আয়োজন। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর প্রতিনিধি হয়ে সমঝোতা করতে লাহোরে সিঙ্গাপুরের ইমরান খাজা ও মোবাশ্বিরের উপস্থিতি।

নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পাকিস্তান আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে নামলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবে আইসিসি। তবে তাতে তো আর এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হবে না বাংলাদেশের। এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু করে দিয়েছে স্কটল্যান্ড। বিসিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে পারে আইসিসি। সেই ‘ক্ষতিপূরণ’ হতে পারে আর্থিকভাবে, হতে পারে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কোনো আইসিসির ইভেন্ট আয়োজনের সত্ত্ব দিয়ে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের লাভের ভাগ দিতে পারে আইসিসি। ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব আইসিসির ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে পারে তারা। কিংবা ভিন্নভাবেও বাংলাদেশকে কোনো ‘সান্ত্বনা’ বা সমর্থনসূচক বিবৃতিও দিতে পারে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে যেতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। এই ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। বাংলাদেশের বিকল্প ভেন্যুর দাবি না মেনে উল্টো তাদের বিশ্বকাপের বাইরে রাখে আইসিসি। এতে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে খেলার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিসিবি এবং ক্রিকেটাররা। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বকাপ না খেলতে পারার যন্ত্রণায় পুড়ছে পুরো বাংলাদেশ। নিশ্চয়ই বাংলাদেশকে মিস করছে বিশ্বকাপও!

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *