যেসব রেকর্ড অক্ষত রেখে বিদায় নিলেন রোনালদো

দীর্ঘ ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আজ (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।
পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে গত মাসে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান সিআরসেভেন। এর জেরে পরে নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। শেষমেশ জাতীয় দলকেও বিদায় জানিয়ে দিলেন। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের মাস খানেকের ব্যবধানে রোনালদোও বিদায় জানালেন।
৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ২০০৩ সালে অভিষেকের পর থেকে দেশের জার্সিতে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৪৬টি গোল করেছেন। দুটিই বিশ্বরেকর্ড।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রোনালদোর পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে এরই মধ্যে বিদায় বলা আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার পাশাপাশি আরও অসংখ্য রেকর্ডের মালিক রোনালদো। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪ গোল, ইউরো বাছাইপর্বে ৩৯ এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪১ গোল তার। ইউরোপীয় বাছাইপর্ব মিলিয়ে তার গোল ৫৫টি। বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ৯ গোলও তার। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০টি হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও আছে এই পর্তুগিজ তারকার। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ ছয় আসরে অংশ নেওয়ার রেকর্ডও তার দখলে।
রেকর্ডের তালিকায় আরও কিছু অনন্য অর্জন যোগ হয়েছে রোনালদোর। ইউরোপীয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলের হয়ে ১০০ গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনি। পুরুষ জাতীয় দলের হয়ে ১০টি হ্যাটট্রিক করা এবং ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলা প্রথম খেলোয়াড়ও রোনালদো।
দলীয় সাফল্যের দিক থেকেও তার অর্জন কম নয়। ২০১৬ সালে পর্তুগালের হয়ে জিতেছেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর ২০১৯ ও ২০২৫ সালে জিতেছেন উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা। তবে এত অর্জনের ভিড়েও বিশ্বকাপের শিরোপা অধরাই রয়ে গেছে। বিশ্বকাপে ২৭ ম্যাচে ১১ গোল করলেও নকআউট পর্বে গোল করতে পেরেছেন মাত্র একবার—২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে।
একনজরে রোনালদোর রেকর্ড
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোল : ২৩৪টি ম্যাচ এবং ১৪৬টি গোল।
ইউরো কাপে সাফল্য : মূল পর্বে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪ গোল এবং বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৩৯ গোল।
বাছাইপর্বের রেকর্ড : বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪১টি এবং ইউরোপীয় বাছাইপর্বে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫৫টি গোল।
হ্যাটট্রিক : আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ১০টি হ্যাটট্রিক।
বিশ্বকাপের রেকর্ড : প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি আলাদা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং গোল করার অনন্য কীর্তি।



মন্তব্য করুন