রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মেলানিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী এবং দেশটির ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খেরসনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনও এ যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেছে।
যুদ্ধের কারণে ওলেশকি বাসিন্দারা শরটিতে আটকা পড়েছেন এবং যুদ্ধের কারণে শহরটিতে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী পৌঁছাতে পারছেনা। ফলে বর্তমানে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দ্বারপ্রান্তে আছে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এ শহরটি।
গতকাল শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ফার্স্টলেডির দপ্তর থেকে একটি মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, “ওলেশকির বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। যুদ্ধের সম্মুখসারির এ শহরটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আছে।”
আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। আরও বলা হয়েছে, এ যুদ্ধবিরতি হবে স্থানীয়, অর্থাৎ আপাতত শুধু ওলেশকিতেই এটি সীমিত থাকবে।
“এটি এখন স্পষ্ট যে আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া অসম্ভব হতো”, বিবৃতিতে বলেছেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই মানবিক কার্যক্রম শুরু হবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ও শীর্ষ মুখপাত্র ডেভিড আরাখামিয়া গতকাল জানিয়েছেন, “মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিও-র অংশগ্রহণে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত এই চুক্তির আওতায় একটি মানবিক করিডোর তৈরি করা হবে, যার মাধ্যমে বাসিন্দারা শহর ছেড়ে যেতে পারবেন এবং সেখানে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
এদিকে, ক্রেমলিন শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। তারা জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এখন এই চুক্তি বাস্তবায়নের তারিখ নির্ধারণের জন্য কাজ করছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ওলেশকি থেকে যেসব বেসামরিক নাগরিক চলে যেতে ইচ্ছুক, তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
পেসকভ এই চুক্তি অর্জনে মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে পেসকভ বলেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই; তিনি মানবিক কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”
এর আগে এক বছর আগে মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গোপন মাধ্যম (ব্যাক চ্যানেল) তৈরি করেছিলেন।
মেলানিয়ার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে স্লোভেনিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই সাবেক ফ্যাশন মডেল যুদ্ধের কারণে বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৩৪ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছেন।
সর্বশেষ এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দিক থেকে সরে এসে পুতিনের দিকে ঝুঁকেছেন।
মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ‘ওলেশকি পরিকল্পনা’ (ওলেশকি প্ল্যান) বাস্তবায়নের জন্য তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের বেসামরিক নেতারা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং মানবিক প্রয়োজনগুলো মূল্যায়নের জন্য বিধ্বস্ত শহরটিতে যাবেন।
শুক্রবারের বিবৃতিতে মার্কিন ফার্স্টলেডি বলেছেন, “যেসব বাসিন্দা অন্যত্র চলে যেতে ইচ্ছুক, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হবে। আমার ধারণা, তাদের কেউ রাশিয়ায় যেতে চাইবেন, আবার কেউ ইউক্রেনে যেতে চাইবেন।”
মেলানিয়া আরও জানান যে, বাসিন্দাদের ইচ্ছাকে যেন যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে এবং একটি ‘নিরপেক্ষ মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থা’ পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে রুশ ও ইউক্রেনীয় দলগুলোর সঙ্গে থাকবেন এবং পুরো বিষয়টি নথিবদ্ধ করবেন। তবে কোন ‘নিরপেক্ষ মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থা’ এ কাজটি করবে, তার নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
খেরসন অঞ্চলে দিনিপ্রো নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সালে রুশ বাহিনী দখল করে নেয়। যুদ্ধের আগে শহরটিতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করত, কিন্তু বর্তমানে সেখানে মাত্র ২ হাজার মানুষের মতো অবশিষ্ট রয়েছে।
শহরটির সাবেক বাসিন্দারা এই মাসের শুরুর দিকে এএফপি-কে জানিয়েছিলেন যে, রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যকার লড়াইয়ের মাঝে পড়ে সাধারণ মানুষ আটকা পড়েছেন এবং সেখানে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট



মন্তব্য করুন