স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩- আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। শিক্ষার উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের স্বনামধন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট গার্টেনের সাবেক অধ্যক্ষ মরিয়ম আক্তারের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সিফাত মোঃ ইশতিয়াক ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার ব্যাপারে খুবই সচেতন। তিনি আগামীতে স্কুল পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় যে কোন ভাষা পাঠ্য করতে চান। যাতে করে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বিদেশে গেলে ভাষার জন্য কষ্ট করতে না হয়।
তিনি বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসরে যান না। সাবেক অধ্যক্ষ মরিয়ম আক্তার একজন আদর্শবান ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষা অঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেনের যেকোন প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি এ.বি.এম মোমিনুল হক, সদর উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মোঃ আলী আজম, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিব উল্লাহ, বর্তমান অধ্যক্ষ তানিয়া আহমেদ প্রমুখ।
মানপত্র পাঠ করেন শিক্ষার্থী নাফিজা মারিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ নাজনীন আক্তার।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সিফাত মোঃ ইশতিয়াক ভূইয়া বলেন, মরিয়ম আক্তার ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও অনুপ্রেরণার উৎস। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলেছেন।
বিদায়ী অতিথি অধ্যক্ষ মরিয়ম আক্তার বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আমার পরিবারের মতো। আমি দায়িত্ব নেয়ার সময় এই প্রতিষ্ঠানে একটি টিনের ঘর ছিলো। মাত্র ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করেছিলাম। আজ শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। এসব সম্ভব হয়েছে বিচক্ষণ পরিচালনা কমিটির জন্য। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। সবার ভালোবাসা ও সম্মান আমি আজীবন মনে রাখবো।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, টানা ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে গেলেন অধ্যক্ষ মরিয়ম আক্তার। ফুলেল ভালোবাসা আর আবেগঘন পরিবেশে তাকে বিদায় জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
