জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার জন্য সৌদি আরবজুড়ে মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সরকারি ক্যালেন্ডার উম্মুল কুরা অনুযায়ী ২৯ জিলকদ, অর্থাৎ ১৭ মে রোববার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যারা খালি চোখে বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখতে সক্ষম, তারা যেন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গঠিত সরকারি চাঁদ দেখা কমিটিতে অংশ নেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামি দেশে জিলহজের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে টেলিস্কোপের মাধ্যমে চাঁদ দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চলে অনুকূল আবহাওয়ায় খালি চোখেও চাঁদ দেখা সম্ভব হতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শওকত ওদেহ বলেন, বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী ১৮ মে সোমবার জিলহজ মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে অধিকাংশ ইসলামি দেশে ২৭ মে বুধবার ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে।
তিনি জানান, বিভিন্ন শহরে চাঁদ দেখার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আবুধাবিতে সূর্যাস্তের ৫৮ মিনিট পর পর্যন্ত চাঁদ আকাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন চাঁদের বয়স হবে ১৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
আর মক্কায় সূর্যাস্তের পর ৫৮ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দৃশ্যমান থাকতে পারে, তখন এর বয়স হবে ১৯ ঘণ্টা ২২ মিনিট।
কেন্দ্রটির তথ্য অনুযায়ী, অনুকূল আবহাওয়ায় আম্মান, জেরুজালেম, কায়রো ও রাবাতেও খালি চোখে চাঁদ দেখা সহজ হতে পারে।
ওদেহ বলেন, ঈদুল আজহার তারিখ পুরোপুরি নির্ভর করছে জিলহজের চাঁদ দেখার সরকারি ঘোষণার ওপর। যদি রোববার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায়, তাহলে সোমবার থেকে জিলহজ শুরু হবে এবং ২৭ মে ঈদ উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে মাস ও ঈদের তারিখ এক দিন পিছিয়ে যাবে।
তিনি আরো ব্যাখ্যা করেন, চাঁদের বয়স ও দিগন্তে অবস্থানের সময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার ক্ষেত্রে সূর্যের সঙ্গে এর কৌণিক দূরত্ব ও পর্যবেক্ষণের সময় দিগন্তের ওপরে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ হয় বাংলাদেশে। সে হিসাবে দেশে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) ঈদুল আজহা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদ উদযাপনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।
