ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহালয়া তিথিতে মন্দিরে মন্দিরে দেবী বন্দনা

স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রারম্ভে মহালয়া তিথির মধ্য দিয়ে শনিবার দেবি পক্ষের শুভ সূচনা হয়েছে।
মহালয়ার তিথির মাহেন্দ্রক্ষণে শহরের শিববাড়িতে পুস্পাঞ্জলী সংসদ পূজা মন্ডপ ও মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরে পবিত্র চন্ডীপাঠ ও দেবীদূর্গার আগমনীর সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীকে মর্ত্যধামে আমন্ত্রন জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সনাতনী শিল্পগোষ্ঠির শিল্পীদের পরিবেশনায় দূর্গাদেবীর আগমনীর সঙ্গীতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো পূজামন্ডপ।
মন্ত্রপাঠ চলাকালে শঙ্ক ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। ভক্তরা জানান এ বছর দেবী দূর্গা ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমন করবেন। পাঁচ দিন ভক্তদের মাঝে থেকে আবারো বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে স্বামী গৃহে কৈলাশ চলে যাবেন।
পুষ্পাঞ্জলী সংসদের অনুষ্ঠানের আয়োজক নয়ন কর জানান, মহালয়া তিথির মধ্য দিয়ে এই মর্ত্যধামে মায়ের আগমন ঘটেছে। আজকে আমরা চন্ডীপাঠ, আগমনী গানের মাধ্যমে মাকে বরণ করেছি। আজকে আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করব মা যেন সবাইকে ভাল রাখেন। সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারি।
শিববাড়ী মন্দিরের পুরোহিত নন্দ কিশোর চক্রবর্তী জানান, মহালয়া হলো পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ। এর মাধ্যমে দুর্গাপূজোর উৎসবের সূচনা হয়। দেবী দুর্গা এইদিন পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই তিথি দেবী দুর্গার জন্ম এবং অসুর রাজা মহিষাসুরের উপর তাঁর চূড়ান্ত বিজয়ের বর্ণনা দেয়। পিতৃপক্ষে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে ‘জলদান’ বা তর্পণ করা হয় এবং পরলোকগত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই অসহায় মানুষদের দান করলে পূর্ণ লাভ হয় ।
মহালয়া তিথি উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিববাড়ি, মধ্যপাড়া ইসকন মন্দির, কাল ভৈরব মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজা মন্ডপে পূজার্চনার অনুষ্ঠিত হয়।



মন্তব্য করুন