ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা ইসরায়েলের

পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তবে কনস্যুলেট ভবন বন্ধ না করে সেটিকে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নামে চালু রাখছে যুক্তরাজ্য।
নিরাপত্তার কারণে কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হলেও ভবনটিতে সাতজন কূটনীতিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালিয়ে যাবেন।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার জানান, কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন ব্রিটিশ কূটনীতিক তাদের দায়িত্ব শেষ করে ইসরায়েল ছাড়বেন।
তবে ব্রিটিশ সরকারের মালিকানাধীন কনস্যুলেট ভবনে সাতজন কূটনীতিকের একটি দলকে সীমিত পরিসরে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সার বলেন, ‘ব্রিটিশ কনস্যুলেট ইন জেরুজালেম আজ তার কার্যক্রম বন্ধ করছে।
’ তিনি জানান, কনস্যুলেটের সাইনবোর্ডও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে কনস্যুলেট ভবনের বাইরে ব্রিটিশ পতাকা দেখা গেছে।
কয়েকজন কর্মীকেও ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন কূটনীতিক ইসরায়েল ছাড়বেন। একই সঙ্গে সাতজন কূটনীতিক ভবনটিতে থেকে সীমিত পরিসরে কাজ করবেন।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, নিরাপত্তার কারণে কিছু কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে মিশন বন্ধ হচ্ছে না এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে।
এক বিবৃতিতে মিলিব্যান্ড বলেন, পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েল অধিকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবনটি বন্ধ হবে না এবং বৃহস্পতিবার থেকে এটি ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নামে কার্যক্রম চালাবে।
তবে কর্মী ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা ইসরায়েলের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি বলে জানান মিলিব্যান্ড। এ কারণে কয়েকজন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভবনে থাকা সাতজন কূটনীতিক স্বাধীনভাবে ও কার্যকরভাবে কাজ করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালিয়ে যাবেন। তবে ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের কার্যক্রমের পরিধি খুবই সীমিত থাকবে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, ভবনটি খোলা রয়েছে এবং সেখানে যুক্তরাজ্যের উপস্থিতি বজায় আছে। কর্মীরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চলবে।
নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বিরোধ মেটানো হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ডাউটি বলেন, নামের পরিবর্তন হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেখানে যুক্তরাজ্যের উপস্থিতি বহাল থাকছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের নীতির বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আপত্তিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
গত সেপ্টেম্বরেই ইসরায়েল ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতিকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বৃহস্পতিবারের সময়সীমার আগে কনস্যুলেট বন্ধ না করার জন্য ইসরায়েলকে রাজি করাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েছিল যুক্তরাজ্য। ইসরায়েল জানিয়েছিল, ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
১৮৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কনস্যুলেট জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাস থেকে আলাদা। তেল আবিবের দূতাবাসই ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধান কূটনৈতিক কেন্দ্র।
কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্য লন্ডনে ইসরায়েলি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
বর্তমান সমঝোতায় আপাতত সেই উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। ইসরায়েল বলছে, ব্রিটিশ কনস্যুলেট তার কার্যক্রম বন্ধ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বলছে, ভবন ও মিশনের উপস্থিতি বহাল রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু থাকবে।
মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পারস্পরিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার অধিকার যুক্তরাজ্য সংরক্ষণ করছে। তবে আলোচনা চলমান ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়ায় আপাতত কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
তথ্যসূত্র: বিবিসি



মন্তব্য করুন