বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বিজয়নগরের ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা আজ ভয়াবহ সড়ক দুর্ভোগে বিপর্যস্ত

May 11, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 29 বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : স্বাধীনতার পর থেকেও অবহেলিত জনপদে পরিণত হয়েছে বিজয়নগর বাসী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের নাম এখন “রাস্তা”। স্বাধীনতার পর থেকে নানা অবহেলা, উন্নয়ন বঞ্চনা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার শিকার এ জনপদের মানুষের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবস্থা। বিশেষ করে চান্দুরা থেকে চম্পকনগর এবং চম্পকনগর থেকে সিঙ্গারবিল পর্যন্ত প্রধান সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

‎গত দেড় বছর ধরে সড়কটির ভয়াবহ বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়রা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস আগে চান্দুরা থেকে চম্পকনগর পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের টেন্ডারন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয় এবং বড় বড় গর্তগুলো আংশিক ভরাট করা হয়। তবে গত তিন থেকে চার মাস ধরে হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কেন কাজ বন্ধ রয়েছে—এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

‎এদিকে বর্ষা শুরু হওয়ায় টানা বৃষ্টিতে সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ছোটখাটো খাল কিংবা জলাশয়ের রূপ নিয়েছে।

‎চম্পকনগর থেকে সিঙ্গারবিল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, টুকচানপুর, লক্ষ্মীপুর, আদমপুর, নোয়াগাঁও মোড়, খিঁড়াতলা ও আটকলা এলাকায় অসংখ্য বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কিছু গর্তের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত। বিশেষ করে নোয়াগাঁও মোড়ের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৩০০ ফুট রাস্তা পানির নিচে ডুবে আছে।

‎খিঁড়াতলা গ্রামের দুটি স্থান বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে কিংবা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আটকলা গ্রামের প্রায় ২০০ ফুট এলাকা এখন আর রাস্তা নয়, যেন ছোট একটি খাল। উজির বাড়ির মোড় থেকে সিঙ্গারবিল বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ফুট সড়ক খানা-খন্দকে ভরে গেছে।

‎স্থানীয় পরিবহন চালকরা জানান, প্রতিদিন সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন বিকল হচ্ছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। অনেক রোগী হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাস্তায় ভোগান্তির কারণে জীবন হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট কিংবা কৃষকের ফসলহানির চেয়েও এখন বিজয়নগরের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রাস্তা। চায়ের দোকান থেকে বাজার—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন এই সড়ক দুর্ভোগ।

‎স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী জনগণ অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে বড় বড় গর্ত ভরাট ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কাজ বর্ষার পরে হলেও আপাতত অন্তত চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

‎এ বিষয়ে এলাকাবাসী এমপি মহোদয় ও বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “টেন্ডারের দীর্ঘসূত্রতা অপেক্ষা না করে অন্তত বড় গর্তগুলো দ্রুত ভরাট করা হোক। তাহলে সাধারণ মানুষ অন্তত সাময়িক স্বস্তি নিয়ে চলাচল করতে পারবে।”

‎জনস্বার্থে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে—এমন প্রত্যাশা এখন বিজয়নগরের লাখো মানুষের।

 

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *