বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরীর ইজ্জতের মুল্য ৫০ হাজার, মা বাবা ৬ হাজার বাকী টাকা সর্দারদের পকেটে

October 4, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 2 বার পঠিত

মোঃ আব্দুল হান্নান,নাসিরনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের।১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাসা বাড়িতে কাজ দেয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে ওই কিশোরীর এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে।

অনৈতিক কাজে রাজি না হলে ওই কিশোরীকে বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হতো।রুমে আটকে রেখে মারধর এবং গরম চামচ ও খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকাও দেওয়া হতো। তবে এত অমানবিক নির্যাতনের পরও মামলা দিতে রাজি নয় কিশোরীর পরিবার।

অভিযোগ রয়েছে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা বিষয়টি আপস করেছেন। তবে কিশোরীর পরিবার পেয়েছে মাত্র ৬ হাজার টাকা।স্থানীয় বাসিন্দা, কিশোরীর স্বজন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ওই কিশোরীকে তার পরিবার দূর সম্পর্কের ফুফা মৃত জামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠায়। অভিযোগ রয়েছে সেখানে ফুফাতো বোন তাসলিমা বেগম, তার স্বামী রাজা মিয়া, তার বোন খাদিজা বেগম ও ভাই লালন মিয়া তাকে গৃহকাজের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক বিভিন্ন জনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে।
এতে রাজি না হলে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ করেছে ওই কিশোরী।প্রায় ১০-১২ দিন আগে ওই কিশোরী সেখান থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে। এরপর ৩০ সেপ্টম্ভর রোজ বুধবার সন্ধ্যায় পান-সুপারি কিনতে বাড়ি থেকে বাজারের দিকে গেলে তাকে জোর করে তুলে ওই পরিবারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেখানে একটি রুমে আটকে রেখে মুখ বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী।

২ অক্টোবর রোজ শুক্রবার দেওয়া হয়। এছাড়া ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে তার ডান পায়েও আঘাত করা হয়। পরে তার কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় কিশোরী।

জানতে চাইলে কিশোরীর বাবা-মা সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে চাচা পরিচয়ে একজন বলেন, বিষয়টি আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ঘটেছে। আমরা নিজেরা বসে বিষয়টি শেষ করে দিয়েছি।

ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফিকুল ইসলাম বলেন ঘটনাটি একেবারে ন্যক্কারজনক। কয়েকজন বসে মাত্র ৫০ হাজার টাকা রায় করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এরমধ্যে ওই কিশোরীর পরিবার পেয়েছে মাত্র ৬ হাজার টাকা। এই ঘটনাতো সালিশি সমাধান হতে পারে না। সেই সালিশকারকরা এখন গা-ঢাকা দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে ৩ অক্টোবর রোজ শনিবার বিকেলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন। ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারকে আসতে বলা হলে তার মা এসেছিলেন। কিশোরীর মা স্বীকার করেছেন ৬ হাজার টাকা পেয়েছেন। তারা থানায় কোনো অভিযোগ দেবেন না বলে জানান ওই কিশোরীর মা।

নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী কিশোরী জানায় তারা কোনো মামলা দিবে না। অভিযোগ না পেলে আমরাতো কিছুই করতে পারছি না।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *