যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী নরইস্টার ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, উপকূলীয় বন্যা ও বড় ঢেউয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট ও ম্যাসাচুসেটসসহ পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়টির প্রভাব ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হলেও উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত ছিল।
ঝড়ের কেন্দ্র লং আইল্যান্ডের দক্ষিণে ও উত্তর নিউ জার্সিয়ার পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে নিউ জার্সি থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস ও বিপজ্জনক ঢেউ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে বাড়িঘর ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
ঝড়ের সময় নিউইয়র্কের মনটক পয়েন্টে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮১ মাইল বা প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে।
শনিবার নিউইয়র্ক শহরে একটি গাছ পড়ে নগরীর আবাসন কর্তৃপক্ষের এক কর্মী নিহত হন। তিনি একটি পার্কিং এলাকায় হাঁটার সময় গাছটি তাঁর ওপর পড়ে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঝড়ের কারণে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। নিউ জার্সির কিছু এলাকায় সড়ক পানিতে ডুবে যায়। উদ্ধারকারীরা বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করেন। উত্তর ক্যারোলিনার হ্যাটেরাস দ্বীপে যাওয়ার সড়ক যোগাযোগও বন্যার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বহু ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। আগের দিনই দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে চার শতাধিক ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানিয়েছিল রয়টার্স।
এদিকে, উপকূলীয় এলাকায় বড় ঢেউ আঘাত হানতে থাকায় বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর ও সড়কে পানি ঢুকে পড়ে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা ঝড় দুর্বল হয়ে এলেও পরবর্তী জোয়ারের সময় উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তথ্যসূত্র: এপি, রয়টার্স






পাঠকের মন্তব্য