বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের স্কুলে হামলা: এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিল যুক্তরাষ্ট্র

September 20, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 40 বার পঠিত

ইরানের মিনাবের একটি স্কুলে হামলার পেছনে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের ভূমিকা ছিল। এর মধ্যে একটি হলো- এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের পাশাপাশি কর্মী কমানো এবং দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের তাড়াহুড়াও প্রাণঘাতী হামলার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। হামলাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো দায় স্বীকার করেনি। সম্প্রতি জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য তারা যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ১২৩ শিশুসহ ১৫০ জনের বেশি নিহত হন। বিদ্যালয়টির পাশেই একটি নৌঘাঁটি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেটিই ছিল হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।

ঘটনাটি নিয়ে গত মার্চ মাসে তদন্ত শুরু হয়। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেও তা কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার তদন্তটি শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মে মাসে কংগ্রেস সদস্যদের তিনি জানান, ‘এ কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।’ কিন্তু প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য কতটা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মকর্তারা ব্লুমবার্গকে প্রথম দিককার কিছু বিবরণ দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে হামলাটি ঘটেনি। বরং একাধিক ছোট সিদ্ধান্তের কারণে এমনটা হয়েছে।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশে রাজি হননি। তারা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কয়েকদিনে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে থেকে ব্যাপক বিমান হামলার নির্দেশ এসেছিল। কিন্তু হাতে সময় ছিল কম। তাই তাড়াহুড়া করে লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করা হয়। স্থাপনাটি সম্পর্কে মূল তথ্যের ঘাটতি, বেসামরিক সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মী কমানো এবং এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ভুলের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, জটিল সামরিক অভিযান পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের কাজ করা হয় ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমের’ মাধ্যমে। এআই চালিত সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে প্যালান্টির টেকনোলজিস। সফটওয়্যারটি দেড়শোর বেশি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পর সেগুলো সমন্বয় করে। যাতে কমান্ডারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ সহজ হয়। ব্লুমবার্গকে কর্মকর্তারা বলেছেন, সেন্টকমের কিছু কর্মী এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন।

গত এক বছরে ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমকে মার্কিন সামরিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান প্রযুক্তিতে পরিণত করেছে পেন্টাগন। বেশ কয়েকজন সাবেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বর্তমানে ম্যাভেনের মূল প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরে কাজ করছেন। তাদের দায়িত্ব নিরাপদ সামরিক পরিবেশের মধ্যে সফটওয়্যারটি সচল রাখা।

কর্মকর্তারা বলেন, সেন্টকমের কর্মীরা আশা করেছিলেন গোয়েন্দা তথ্যে যদি পুরোনো কিছু থাকে, তাহলে ম্যাভেন সেটি শনাক্ত করে সতর্কবার্তা দেবে। কিন্তু কেন তারা এমনটি আশা করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়।

প্যালান্টিরের এক মুখপাত্র বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি শনাক্ত করার জন্য কোম্পানিটি দায়ী নয়। মিনাব হামলায় তাদের সফটওয়্যারের ত্রুটি থাকার বিষয়টিও প্রমাণ হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনও মন্তব্য করেনি। একজন মুখপাত্র শুধু বলেছেন, ‘ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।’ অপরদিকে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না।

(মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে গত শুক্রবার। সেখান থেকে সংক্ষেপে অনুবাদ।)

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *