বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

হুতিদের ঠেকাতে ইসরায়েলের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব: জেরুজালেম পোস্ট

September 16, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 137 বার পঠিত

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, গোয়েন্দা সহায়তা বিনিময় নিয়ে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য সৌদির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সহায়তা দেওয়া হবে। আলোচনাটিতে মধ্যস্থতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।

পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র তাদেরকে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্রের ভাষ্য উভয়পক্ষের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে বৈঠকের পর ওই আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, হুতিদের হামলার মুখে থাকা সৌদির বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও পরিকল্পনা সহায়তা জোরদারে সেন্টকমের একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেন্টকম সৌদি অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা জোট বজায় রেখেছে।’

এএফপির প্রতিবেদনটিতে সৌদি-ইসরায়েল বৈঠক ও তাতে সেন্টকমের মধ্যস্থতার প্রসঙ্গ নেই। জেরুজালেম পোস্টও বিষয়টি নিয়ে তাদের প্রতিবেদনে রিয়াদ কিংবা তেল আবিবের দায়িত্বশীল কারও উদ্ধৃতি প্রকাশ করেনি।

একইদিন ইসরায়েলি আরেক গণমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে না থাকতে নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কর্মকর্তারা। এর পরিবর্তে হুমকি মোকাবিলায় তারা বৃহত্তর আঞ্চলিক পদক্ষেপের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

হারেৎজ লিখেছে, গত কয়েকদিনে এসব রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়। হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার দখল নেওয়ায় কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করেন, এই হুমকি মোকাবিলার কার্যকর উপায় হলো একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোট গঠন করা।

জেরুজালেম পোস্ট যা লিখেছে
আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি লিখেছে, সৌদি আরবের সহায়তা অনুরোধের মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভবত গোয়েন্দা সহায়তা পাওয়া। এর মাধ্যমে ওই এলাকায় হুতিদের অবস্থান সম্পর্কে জানা ও অভিযানের পরিকল্পনা করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দিয়েছেন। যা নিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ আছে। কারণ দুই দেশের সীমান্তে নিকটতম দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার।

বিষয়টি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনাতেও তোলা হয়েছিল। তিনি রিয়াদ ও তেল আবিবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্ত করে বক্তব্য দেন। সৌদি বলেছে, তারা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান হওয়ার পর তেল আবিবের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়।

জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, তেল আবিব ও রিয়াদের মধ্যে বেশ কয়েকটি অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ আছে। দুই পক্ষ কীভাবে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে সে ব্যাপারে রূপরেখা তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে পোস্ট আরও লিখেছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি থেকে হুতিদের সরিয়ে দিতে যুক্তরাজ্যেরও সহযোগিতা চেয়েছে রিয়াদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মত হয়েছেন। কিন্তু অতিরিক্ত কোনো সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *