ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।
শনিবার বিকেলে কসবা সীমান্তের কেনাল পয়েন্টে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দুটি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তারা এবং ভারতের পক্ষ থেকে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। নিহতদের স্বজনদের কান্না ও শোকঘন পরিবেশে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতদের একজন কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২০)। তিনি গোপীনাথপুর আলহাজ শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপর নিহত ব্যক্তি একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটের দিকে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় সীমান্তের প্রায় ২০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাঁদের বাধা দেয়।
বিজিবির ভাষ্যমতে, এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুটি ছররা গুলি ছোড়ে। এতে মো. মুরসালিন ও নবীর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ বিজিবিকে নিশ্চিত করে।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
