ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ নিয়ে আবারও উঠেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। শুক্রবার (৮ মে) জুমার নামাজের সময় মসজিদের সামনের অংশে ঢালাই কাজ চলাকালে সেখানে ব্যবহৃত কংক্রিট, বালু ও সুরকির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও সচেতন মুসল্লিরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক মসজিদের সামনের অংশে ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ব্যবহৃত বালু, কংক্রিট ও সুরকি ছিল নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত লোকজন। স্থানীয়দের দাবি, শুরু থেকেই মডেল মসজিদের নির্মাণকাজে নানা অনিয়ম হয়ে আসছে। বারবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এটি একটি ধর্মীয় স্থাপনা, যেখানে মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এখানে যেন দায়সারা কাজ চলছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, “ঠিকাদার যে মালামাল দেয়, আমরা তা দিয়েই কাজ করি। আমাদের কিছু করার নেই।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক ইব্রাহিম খান সাদাত নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন,
“মডেল মসজিদ মনে হয় বেওয়ারিশ। প্রথম থেকেই কাজের মান এত খারাপ যে বলার ভাষা নেই। আজকে আবার দেখলাম নিম্নমানের সুরকি দিয়ে ঢালাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করলাম এটা কী করছেন? তারা বললেন, ঠিকাদার যা দেয়, তাই দিয়ে কাজ করি। আমার মনে হয় এই ঠিকাদার আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের একজন, না হলে এতদিনে তার উপর গজব পড়ার কথা।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে যদি এভাবে নিম্নমানের কাজ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল বলছে, মডেল মসজিদ শুধু একটি ভবন নয়, এটি ধর্মীয় অনুভূতি ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাই নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
