বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

অক্টোবরে মিলবে নতুন পে-স্কেলের বেতন

October 1, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 33 বার পঠিত

 নতুন পে-স্কেলের বাড়তি বেতনের অপেক্ষায় থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সেপ্টেম্বরের বেতন নিয়ে আপাতত অপেক্ষা শেষ হয়নি। সেপ্টেম্বর মাসের বেতনে নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি অর্থ যুক্ত হচ্ছে না।

তবে অক্টোবরের বেতন নতুন পে স্কেল অনুযায়ী দেওয়া হবে। সে হিসাবে নভেম্বরের শুরুতে নতুন কাঠামোর বর্ধিত বেতন হাতে পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের।

নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে গত ১৯ সেপ্টেম্বর। এতে নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।ফলে প্রজ্ঞাপন জারির সময় সেপ্টেম্বর পার হয়ে গেলেও জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার হিসাব হবে। তবে পুরো বর্ধিত বেতন একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না।ধাপে ধাপে বাড়তি বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের পে-ফিক্সেশন বা নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এই কাজ শেষ হলেই নতুন স্কেলে অক্টোবরের বেতন দেওয়ার পথ পরিষ্কার হবে। বিভাগওয়ারি ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

সেপ্টেম্বরের বেতন কেন নতুন স্কেলে নয়
নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন সেপ্টেম্বর মাসে জারি হলেও ওই মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, নতুন বেতন নির্ধারণের আগে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান বেতন, গ্রেড, চাকরির তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, এই কাজ শেষ করে অক্টোবরের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অক্টোবরের বেতন নভেম্বরের শুরুতে পাওয়ার সময়ই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে স্কেলের বর্ধিত বেতনের স্বাদ পাবেন।

এ জন্য এখন সরকারি চাকরিজীবীদের বড় আগ্রহ-নতুন বেতনের মেসেজ কবে আসবে? সেপ্টেম্বরের বেতন আগের নিয়মেই পাওয়ার পর অক্টোবরের বেতন থেকেই নতুন হিসাব কার্যকর হওয়ার কথা।

পে-ফিক্সেশনই এখন মূল কাজ
নতুন বেতন পাওয়ার আগে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সঠিকভাবে পে-ফিক্সেশন করা জরুরি। কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে অসংগত হলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

কোনো চাকরিজীবীর তথ্য অনলাইনে দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে?
নতুন পে স্কেল কার্যকর হয়েছে ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামোর হিসাবে সমন্বয় করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সবার বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। কারও বেতন কত বাড়বে, নতুন স্কেলে তার মূল বেতন কত নির্ধারিত হবে এবং কোন তারিখ থেকে তা প্রযোজ্য-এসবের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।

অর্থাৎ অক্টোবরের বেতন নতুন পে স্কেলে পাওয়ার পাশাপাশি আগের তিন মাসের বর্ধিত বেতনের হিসাবও সমন্বয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধের সুনির্দিষ্ট সময় পে-ফিক্সেশন ও সংশ্লিষ্ট হিসাব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে।

প্রথম ছয় মাসে পুরো বাড়তি বেতন নয়
নতুন পে স্কেলে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন কাঠামোয় বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন। আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন ৫০ শতাংশ। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য নতুন কাঠামোর বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।

আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।

ভাতা মিলবে ২০২৮ সাল থেকে
নতুন পে স্কেলে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতার বিষয়ও রয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের পুরো সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। প্রথমে ধাপে ধাপে বাড়তি মূল বেতন, এরপর ২০২৮ সাল থেকে নতুন কাঠামোর অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সুযোগ রয়েছে। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ভাতাও বাড়বে।

নতুন কাঠামোর সুবিধা পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে তারাও নতুন বেতন কাঠামোর সব সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পাবেন।

ফলে এখন সরকারি চাকরিজীবীদের নজর অক্টোবরের বেতনের দিকে। পে-ফিক্সেশন সময়মতো শেষ হলে নভেম্বরের শুরুতেই নতুন পে স্কেলের বাড়তি বেতন পাওয়ার কথা। আর তার সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের বকেয়া অর্থ কীভাবে ও কখন দেওয়া হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *