বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও গবেষণার গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এই দ্রুতগতির বিকাশ নিয়ে এবার নতুন এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তার দাবি, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অথবা সর্বোচ্চ ২০২৮ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব দিক থেকেই মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে।
এআইয়ের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এমন আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে প্রখ্যাত এআই গবেষক ফ্রাঁসোয়া শোলে এক দীর্ঘ নিবন্ধে বলেছিলেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এমনকি প্রত্নতত্ত্বের মতো বিষয়গুলোও গভীরভাবে কম্পিউটার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
প্রায় পাঁচ বছর পর সম্প্রতি নিজের সেই পুরোনো বক্তব্যটি পুনরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আনেন শোলে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সে সময়ে তাঁর যে পূর্বাভাস নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, এখন তা দ্রুত বাস্তব রূপ নিচ্ছে। শোলের সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরেই নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন ইলন মাস্ক। শোলের দেওয়া সময়সীমাকে বেশ ‘রক্ষণশীল’ উল্লেখ করে মাস্ক জানান, বাস্তবে রূপান্তরের গতি আরও দ্রুত। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কিংবা সর্বোচ্চ ২০২৮ সালের ভেতরেই এআই মানবমেধাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
মাস্কের মতে, বিজ্ঞান ও আধুনিক গবেষণার প্রতিটি শাখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। যার প্রাথমিক রূপ ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল সব কাজ এখন এআইয়ের সহায়তায় দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ইলন মাস্কের এমন আগাম ধারণা দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি বলেছিলেন, ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এআই মানুষের সমকক্ষ হতে পারে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি সেই সময়সীমা এগিয়ে এনে ২০২৫ সালের কথা বলেন।
চলতি বছরের শুরুতেও এলন মাস্ক বলেছিলেন, ২০২৬ সালের শেষ অথবা ২০২৭ সালের মধ্যেই যে কোনো একক মানুষের চেয়ে এআই বেশি কার্যকর হয়ে উঠবে। এবার সেই সম্ভাব্য সময়সীমা সংশোধন করে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে সব ক্ষেত্রেই মানুষকে ছাপিয়ে যাওয়ার নতুন পূর্বাভাস দিলেন এই টেক বিলিয়নিয়ার।
