শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর হওয়া মামলার আসামীদের অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা রহস্যময়। সঠিক সময়ে আসামি ধরতে তৎপর হলে অনেকেই আজ জেলে থাকতো। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা আসামীদের অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হওয়ার পরও মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়াকে ধরতে পারেনি পুলিশ। তাকে সহ অন্যদের গ্রেফতার করতে তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কঠোর শাস্তির আশঙ্কায় আসামী মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া বিদেশে পালিয়েছেন বলে মনে করছে পুলিশ। জুলাই ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া সহ অপরাপর সকল আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে অনেক আগেই । মামলার ১৭ নম্বর আসামী গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানা গেলেও সে জামিন পেয়েছেন কি না তা জানা সম্ভব হয়নি। আসামীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা । পল্লবী থানার মামলা নং ৩৭/৭৬১-এ ১৪ নম্বর আসামি মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়াকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা, তাছাড়া তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের রাউৎহাট এলাকায় ও তার উপস্থিতি নেই। পল্লবী থানার মামলায় প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সহ ৭৮ জন। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩/৩০২/৩৪/১০৯/১১৪ ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য-সংক্রান্ত আইনের ৩/৫/৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে। জুলাই এ ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় আসামীরা হত্যা সহ বিস্ফোরক আইনে অপরাধ করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছরের একনায়ক শাসনের অবসান ঘটে। আন্দোলন দমনের সময় কয়েক হাজার ছাত্র জনতার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে মরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। যার নির্দেশদাতা হিসাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও সেতু মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। তাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কয়েকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসকল মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদন্ড হতে পারে আসামীদের। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামাল সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব ভারতের বিভিন্ন স্থানে পলাতক রয়েছেন। অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ইউরোপ – আমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। মনে করা হচ্ছে যে প্রায় ৫০ হাজারের ও অধিক নেতাকর্মী পলাতক রয়েছেন। এ সকল পলাতক আসামীরা প্রায় সকলেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। বৈরী পরিবেশে গ্রেফতার হলে আসামীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীন সরকার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পালিয়ে জীবন বাঁচাতে তৎপর সকল তালিকাভুক্ত আসামি।
