ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় পেরিয়ে নতুন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সরাইল ও আশুগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শামীমা আক্তার। দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা ও মাঠপর্যায়ের ধারাবাহিক উপস্থিতির কারণে তাকে মহিলা এমপি পদে মনোনয়নের দাবি তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের সময় শামীমা আক্তার সামনের সারিতে থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক উপেক্ষা করেও তিনি মাঠে ছিলেন সক্রিয়। রাজনৈতিক কারণে চাকরি জীবন দীর্ঘায়িত করতে না পেরে নাসিরনগরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্যারামেডিকেল ডাক্তার পদ থেকে ইস্তফা দেন বলেও জানা গেছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সদস্য হিসেবে দল মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালান। ঢাকাসহ বিভিন্ন আসনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জোট প্রার্থীর পক্ষে নারীদের সংগঠিত করতেও ভূমিকা রাখেন। যদিও ওই আসনে জোট প্রার্থী পরাজিত হন এবং বহিষ্কৃত প্রার্থী জয়লাভ করেন।
জেলার পাঁচটি আসনে বিএনপি ও জোট প্রার্থীরা জয় পেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় প্রতিনিধিত্ব না থাকায় উন্নয়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। সরাইলের বাসিন্দা জব্বার মিয়া বলেন, “আগের কয়েকটি নির্বাচনেও প্রতিনিধিত্ব না থাকায় আমরা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এবার চাই শক্ত ও সাহসী নেতৃত্ব। শামীমা আক্তারকে মহিলা এমপি হিসেবে দেখতে চাই।”
আশুগঞ্জের বাসিন্দা কামাল সিকদার বলেন, “সুখে-দুঃখে তাকে পাশে পেয়েছি। তিনি সৎ ও কর্মনিষ্ঠ। দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয়, তা হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া খোকন বলেন, জেলার পাশাপাশি সরাইলের কর্মসূচিতেও তিনি সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন। কঠিন সময়ে তার সাহসী ভূমিকা অনেককে গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, তুলনামূলক বিচারে শামীমা আক্তার যোগ্য প্রার্থী।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আন্দোলনের সময় যেসব নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন, সুসময়ে তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। সেই বিবেচনায় শামীমা আক্তারকে মহিলা এমপি পদে মনোনয়ন দিলে তা দল ও এলাকার জন্য ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সরাইল ও আশুগঞ্জের নেতাকর্মীরা।
