ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো কূটনীতি। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।রোববার তেহরানে ‘পররাষ্ট্র নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ইতিহাস’ শীর্ষক প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার সময় আরাগচি ইরানের সার্বভৌম স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেন্টার ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে আয়োজিত এই সম্মেলনে কৌশলগত সম্পর্ক বিষয়ক পরিষদের প্রধান কামাল খারাজি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর সালেহি এবং বিশিষ্ট কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
আরাগচি তার বক্তব্যে ইসলামী বিপ্লবের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতা, মুক্তি এবং প্রজাতন্ত্রের জন্য ইরানি জনগণের মৌলিক দাবিগুলোই দেশটির পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এটি ঐতিহাসিক বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক চাপের একটি জবাব। এ প্রসঙ্গে তিনি কাজার এবং পাহলভি আমলের উদাহরণ টেনে আনেন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সার্বভৌমত্বের একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, “আমাদের কী থাকা উচিত বা উচিত নয়, তা বলার অধিকার কারও নেই। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের অধিকার এবং এটি অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। এমনকি আমাদের স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ করেও আমাদের সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও জানান, ইরান কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও সেই আলোচনা অবশ্যই ইরানি জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান রেখে হতে হবে এবং কোনো প্রকার জবরদস্তি মেনে নেওয়া হবে না।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কূটনীতিই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ, তবে এটি তখনই সফল হবে যখন আমাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আমরা কারও কাছ থেকে অনুমতি চাইছি না; এই অধিকারগুলো আমাদের জন্মগত এবং অবশ্যই সম্মান করতে হবে।”
আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান কোনো পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না। বরং দেশটির আসল শক্তি হলো বড় শক্তিগুলোর আধিপত্য ও জবরদস্তি প্রত্যাখ্যান করা।তিনি বলেন, “আমাদের পরমাণু বোমা হলো বড় শক্তিগুলোকে ‘না’ বলার ক্ষমতা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা ধমক সহ্য করবে না, যা দেশটির সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সার্বভৌম অধিকার রক্ষার জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই অধিকার ত্যাগ করলে ভবিষ্যতে আরও বড় মূল্য দিতে হবে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে আরাগচি ইরানি জনগণের সহনশীলতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যারা ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” চেয়েছিল, তারাই পরে নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির দাবি তুলতে বাধ্য হয়েছে।তিনি বলেন, “অঞ্চলে আমাদের প্রতিপক্ষদের সামরিক মহড়া আমাদের ভীত করতে পারবে না। আমরা কূটনীতি ও যুক্তিতে বিশ্বাস করি, তবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। আমাদের সেই শক্তি আছে।”
সবশেষে আরাগচি বলেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে অন্যদের আচরণের ওপর। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি তারা ইরানি জনগণের সাথে শক্তির ভাষায় কথা বলে, তবে আমরাও একই ভাষায় জবাব দেব। আর যদি সম্মানের সাথে কথা বলে, তবে আমরাও সম্মান জানাব।”
বিভাগ : আন্তর্জাতিক
মন্তব্য করুন
Comments
এই বিভাগের আরও







No one has commented yet. Be the first!