বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু পাকিস্তানের

February 7, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 2 বার পঠিত

সাহিবজাদা ফারহান আর বাবর আজম যখন ব্যাট করছিলেন, মনে হচ্ছিল অনায়াস জয় দিয়েই আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু দলটি যে পাকিস্তান! সহজ ম্যাচ কঠিন, আবার কঠিন ম্যাচ সহজ করে জেতাই যেন চিরায়ত ধর্ম। এবারও ব্যতিক্রম হলো না তার। একটা পর্যায়ে জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল ৫৪ বলে ৫০ রান, হাতে ৮ উইকেট। এমন সহজ সমীকরণ শেষে গিয়ে দাঁড়ালো ১২ বলে ২৯ রানে, হাতে তখন ৩ উইকেট!

ফাহিম আশরাফের শেষের ঝড়ে সব শঙ্কা উড়ে গেল নিমিষেই। ১৯তম ওভারে তিন ছক্কা ও এক চারে নিলেন ২৪ রান। পরের ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাতলেন জয়ের উল্লাসে। পাকিস্তান শিবিরে তখন স্বস্তির শিতল নিঃশ্বাস।

নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে আসর শুরু করেছে পাকিস্তান। ১৪৮ রানের লক্ষ্য পূরণ করতে খেলতে হয়েছে ১৯ ওভার তিন বল পর্যন্ত।

কঠিন সময়ে ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রানের খেলে নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের জয়ের নায়ক ফাহিম।

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস গ্রাউন্ডে শনিবার টস জিতে বল বেছে নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। শুরুটাও দারুণ ছিল তাদের। পাওয়ার প্লের মধ্যে তারা ফেরায় প্রতিপক্ষের দুই ওপেনারকে।

এরপরও পাওয়ার প্লেতে ৫০ রান তুলে নেয় ডাচরা। পরে বাস ডি লিড, কলিন আকারম্যান ও স্কট এডওয়ার্ডসের ব্যাটে তারা চলে যায় শক্ত অবস্থানে।

৭৩ বলে ৩ উইকেটে ডাচরা স্পর্শ করে দলীয় একশ। তবে শেষ দিকে প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেননি ব্যাটাররা। দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান।

নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন অধিনায়ক এডওয়ার্ডস। ২৫ বলে ২০ করেন লিড। আকারম্যান করেন ১৪ বলে ২০। এছাড়া বিশ পেরুতে পারেন কেবল ওপেনার মিকেল লেভিট (১৫ বলে ২৪)।

পাকিস্তানের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার সালমান মির্জা। দুটি করে শিকার ধরেন মোহাম্মাদ নেওয়াজ, আবরার আহমেদ ও সাইম আয়ুব।

জবাবে দলকে ঝড়ো শুরু এনে দিয়ে বিদায় নেন সাইম আয়ুব (১৩ বলে ২৪)। পঞ্চম ওভারে দলীয় ফিফটি পেরিয়ে বিদায় নেন অধিনায়ক সালমান (৮ বলে ১২)। এরপর দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ফারহান ও বাবর।

৩২ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ রান করা ফারহানের বিদায়ের মধ্য দিয়েই পাকিস্তানের বিপর্যয়ের শুরু। দলীয় ৯৮ থেকে ১০০ রানে যেতে বিদায় নেন উসমান খান (২ বলে ০) ও বাবর আজমও (১৮ বলে ১৫)।

এই ধাক্কা সামলে না উঠতেই দলীয় ১১৪ রানে দাঁড়িয়ে টানা দুই বলে বিদায় নেন মোহাম্মাদ নেওয়াজ (১৩ বলে ৬) ও শাদাব খান (১২ বলে ৮)। পাকিস্তান তখন খাঁদের কীনারায়।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ফাহিম। অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। আফ্রিদি ৯ বলে ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

ভাগ্যকেও পাশে পেয়েছিলেন ফাহিম। লগান ফন বিকের ফুল টস বলে টাইমিং গড়বড়ে বল তুলেছিলেন আকাশে। লং অনে ছুটে এসে ডাইভ দিয়ে দুই দফায় বল মুঠোয় নিতে পারেননি মাক্স ও’ডাউড। নেদারল্যান্ডসের ম্যাচটাও ফসকে যায় সেখানেই। আগের বলে ছক্কার পর ওই জীবন পেয়ে তিন বলের মধ্যে আরও দুটি ছক্কায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন ফাহিম। অসাধারণ এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না নেদারল্যান্ডস। হারের চোখরাঙানি এড়িয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল পাকিস্তান।

নেদারল্যান্ডসের আরিয়ান দত্ত ও পল ফন মিকেরেন নেন ২টি করে উইকেট।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *