সুরক্ষা দেবে সিস্টেম আপডেট

নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকার চক্র আক্রান্ত সার্ভারে প্রবেশ করে নির্দেশ চালাতে পারে। এমন শঙ্কা থেকে ওয়েবসাইটের তথ্য ও সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সারাবিশ্বে একের পর এক ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। কারণ, ইন্টারনেটের বিপুল সংখ্যক ওয়েবসাইট চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি জটিল নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। অনেক দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বিপদ এড়াতে দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট করছে।
কী ও কেন এত জরুরি?
বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত এই প্রোগ্রামিং ভাষা মূলত ফ্রিতে পাওয়া যায়। এটি ওপেন-সোর্স প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এটি সারাবিশ্বে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সাইটে কোনো পৃষ্ঠা ক্লিক করা মাত্রই সার্ভার পিএইচপির কোডের সহায়তায় যথার্থ বিষয় তৈরি করে তা ব্রাউজারে প্রেরণ করে। জানা গেছে, যেসব ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ চিহ্নিত করা যায়, তার ৭০ শতাংশের বেশি এই ভাষা ব্যবহার করে।
ওয়ার্ডপ্রেসের মতো কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা এই ভাষার ওপর নির্ভর করে উইকিপিডিয়া ও ফেসবুকের অনেকে। সরকারি ওয়েবসাইট চালানোর জন্য ব্যবহৃত ড্রুপাল ভাষা প্রভাবিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় সরকারিভাবে ড্রুপাল ভাষাভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে চার শতাধিক সরকারি ওয়েবসাইট চলে।
ত্রুটির ধরন
এই ভাষা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অলাভজনক সংস্থা পিএইচপি ফাউন্ডেশন বলছে, শনাক্ত ত্রুটি মেমোরি ব্যবস্থাপনা ও ভুল সামলানোর ব্যবস্থার মতো জটিল অংশে রয়েছে। সাইটের সবকটি অনুরোধ প্রক্রিয়ার সময় এসব অংশ ব্যবহৃত হয়।
নিরাপত্তা সংস্থা হেড্রিয়ান এ দুই ত্রুটিকে একযোগে কাজে লাগানোর পদ্ধতির নাম দিয়েছে পিএইচপিশেল। এটি বিশেষভাবে তৈরি অনুরোধ পাঠিয়ে আক্রান্ত সাইটের মেমোরিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বাগের দুর্বলতার সুযোগে হ্যাকার সার্ভারে নিজের নির্দেশ চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) সতর্কবার্তা বলছে, সার্ভারের ফাইল বা ডেটাবেসে এ পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি প্রবেশের পথ তৈরি হতে পারে। এর অর্থ শুধু ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠা বদলে দেওয়া নয়; সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বা সংরক্ষিত তথ্যের নিরাপত্তা বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে ত্রুটি থাকা মানেই যে সবকটি ওয়েবসাইট এরই মধ্যে হ্যাক হয়েছে, তা কিন্তু নয়।
ভুল ছোট্ট হলেও বিপদ বড়
যে কোনো সফটওয়্যার তৈরির সময়ে কিছু ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। প্রযুক্তির ভাষায় এসবকে বাগ বলে অভিহিত করা হয়। অপচক্র এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে কোনো ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল ব্যবস্থায় অজ্ঞাতে ও সূক্ষ্মভাবে প্রবেশ করে। আগে এই কারিগরি ভাষাগত ত্রুটি খুঁজে বের করতে বিশেষ দক্ষতা ও অনেক সময়ের প্রয়োজন পড়ত। কিন্তু এআই এখন সেই কাজ অনেক দ্রুত করে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন
অফিস বা বাসায় ব্যবহৃত ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ফোনের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করতে হবে। ব্যাংকের ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড গোপন রাখতে হবে।
সন্দেহ হয় এমন লিঙ্ক এড়িয়ে তাতে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যাংকের লেনদেনের সময়ে কোন ওয়েবসাইট থেকে কীভাবে, কোন লিঙ্ক থেকে অর্থ প্রেরণ করছেন, তা বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন নজরে পড়লে দ্রুত ব্যাংক বা পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। অর্থাৎ এআই যেমন সাইবার নিরাপত্তা মানোন্নত করতে সহায়তা করতে পারে, তেমনই অপরাধীর হাতে এটি বিপজ্জনক মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট ও ডিজিটাল নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
উদ্বেগের পেছনে যত কারণ
জনপ্রিয় এই কোড সিস্টেম এমন প্রোগ্রামিং ভাষা, যা বহু ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পরিষেবা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এরই মধ্যে পিএইচপিতে ভয়ংকর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে এআই সম্পৃক্ত। এ ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগানো হলে আগামীতে বহু ধরনের ডিজিটাল পরিষেবায় ঝুঁকি তৈরি হবে। সবার আগে সফটওয়্যার হালনাগাদ করতে হবে।
আগামীর সংকট
ঝটপট বিপুল পরিমাণ কোড বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারদর্শী এআই। আগে যে কাজে বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ সময় লাগত, তা এখন মুহূর্তেই হয়ে যায়। অপচক্র এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করলে ব্যাংক, সংস্থা ও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য পড়তে পারে ভয়াবহ সংকটে।


মন্তব্য করুন