বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মোবাইল ফোনের নিবন্ধন দুই ধাপে চালুর পরিকল্পনা

October 20, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 20 বার পঠিত

প্রথম ধাপে ক্লোন ফোনে ছাড়, আগামী ১ জানুয়ারি চালুর লক্ষ্য

বৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনের নিবন্ধন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এবার দুই ধাপে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রথম ধাপে আগামী ১ জানুয়ারি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে অবৈধভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা ফোন শনাক্ত করে সেগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। তবে ক্লোন বা নকল আইএমইআই নম্বরের ফোন বন্ধ করা যাবে না। এ সুবিধা যুক্ত হবে দ্বিতীয় ধাপে।

বিটিআরসির কমিশন সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল সুবিধাগুলো চালু হবে। এতে অবৈধ ফোন শনাক্ত করে সেগুলোর ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে একই আইএমইআই নম্বর একাধিক ফোনে ব্যবহার করে চালানো ক্লোন সেট বন্ধ করা যাবে না। দ্বিতীয় ধাপে ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ সহজ হবে। এ ধাপের জন্য এখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।

বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমদানিকারকদের কাছে থাকা অবিক্রীত ফোনের আইএমইআই নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। ব্যবস্থা চালুর আগে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে অন্তত দুই মাস প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করেছে বিটিআরসি।

প্রথম ধাপে ব্যবস্থা চালুর জন্য সরকারের পূর্বানুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ফলে আগামী ১ জানুয়ারি চালুর লক্ষ্য থাকলেও তা সরকারের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওনার্স অব বাংলাদেশের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, আমরা চাই দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে এনইআইআর চালু হোক। এতে সরকারের রাজস্ব যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রাহকরা ভালোমানের ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আমরা অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে চাই। তবে তাড়াহুড়া করব না। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর একটা সমাধান বের করা হবে, যাতে বরাবরের মতো এই উদ্যোগ ব্যর্থ না হয়। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, এনবিআর তথা সরকার এবং গ্রহাক সবার স্বার্থ বিবেচনা করেই এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগের উদ্যোগেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি

মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর যাচাই করে অবৈধ ও চুরি যাওয়া ফোন শনাক্ত এবং নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য এনইআইআর তৈরি করা হয়। ২০২১ সালের ১ জুলাই এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তবে অবৈধ ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন ফোন শনাক্তের সুবিধা পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ব্যবস্থাটির মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি বলে বিটিআরসির কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে অবৈধভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা ফোনের কারণে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর তথ্য জানায়। এরপর এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠিত সভায় এ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী গত ১ জানুয়ারি সব সুবিধাসহ চালুর প্রস্তুতি নিয়েছিল বিটিআরসি। তবে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জনভোগান্তির শঙ্কায় কিছু সুবিধা পুরোপুরি চালু করা হয়নি।

পরে ৯ জুন এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। ২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যে ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব আসে। সর্বশেষ বিটিআরসির কমিশন সভায় দুই ধাপে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

চালুর উদ্যোগ ঘিরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন

এনইআইআর চালুর আগের উদ্যোগ ঘিরে ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিক আন্দোলন করেন।

ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে ছিল অবিক্রীত ফোন বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, আমদানি শুল্ক কমানো এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা। সে সময় ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর প্রস্তুতি থাকলেও অবিক্রীত ফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে বিটিআরসি তারিখ বদলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে।

ফোনের দাম নিয়ে উদ্বেগ

এনইআইআর চালুর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বৈধ ফোনের দাম ও বাজারে সহজলভ্যতা। ফোন ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরুতে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া একটি মডেলের দাম সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৮ হাজার টাকায় উঠেছে। তাদের শঙ্কা, বছরের শেষ নাগাদ সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোনের দাম ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট এর কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকার চলতি বছরের শুরুতে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমালেও বাজারদরে তার প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি বলে শিল্প-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *