বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মনীষার সঙ্গে নানা পাটেকরের প্রেম-বিচ্ছেদ, ফের আলোচনায় সেই সম্পর্ক

October 10, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 4 বার পঠিত

বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সঙ্গে নানা পাটেকারের সম্পর্ক নিয়ে নব্বইয়ের দশকে সিনেমাভিত্তিক পত্রিকাগুলোতে কম আলোচনা হয়নি। অবশ্য ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলতেন না দুজনে। তবে ১৯৯৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে মনীষার সঙ্গে দূরত্বের পর নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়েছিলেন নানা পাটেকার।

গত বৃহস্পতিবার গোয়ায় নিজের বাসভবনে মারা যান ৭৫ বছর বয়সী অভিনেতা নানা পাটেকার। তার মৃত্যুর পর পুরোনো সেই সাক্ষাৎকার আবারও আলোচনায় এসেছে।

১৯৯৭ সালের ওই সাক্ষাৎকারে নানা বলেছিলেন, মনীষার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরের সময়টা তার জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব কঠিন একটা সময়। এই কষ্ট বুঝতে হলে নিজেকেও সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমি যে যন্ত্রণা সহ্য করেছি, তা বোঝানোর মতো ভাষা আমার জানা নেই। দয়া করে, এ নিয়ে আর কথা বলবেন না।’

নানা ও মনীষা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন ‘খামোশি’ ও ‘অগ্নি সাক্ষী’র মতো সিনেমায়। দুই সিনেমায় তাদের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। ‘অগ্নি সাক্ষী’তে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিলেন নানা। ‘যুগ পুরুষ’ সিনেমায় কাজ করার সময় তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচ্ছেদের পরও মনীষার অভিনয় প্রতিভার প্রশংসা করতেন নানা। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মনীষার অভিনয় প্রতিভা অসাধারণ। তিনি আশপাশের সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রীদের একজন।’

নব্বইয়ের দশকে ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন মনীষা। বহু বছর পর প্রকাশিত নিজের স্মৃতিকথা হিলড-এ অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, জীবনের নানা চাপ সামলাতে একসময় মদ্যপানের আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।

মনীষা লিখেছিলেন, ‘শুটিংয়ের কথা মাথা থেকে সরাতে ও নিজেকে একটি গন্ডির মধ্যে রাখতে আমি মদ্যপান শুরু করি।’

মনীষার এমন পরিস্থিতি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নানা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ও নিজেকে নিয়ে যা করছে, তা দেখলে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। হয়তো এখন ওর বিষয়ে কিছু বলার অধিকারও আমার নেই।’

সে সময় নানা পাটেকার বিবাহিত ছিলেন। তার স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকারের সঙ্গে তখন আলাদা থাকতেন তিনি। তবে তাদের আইনগত বিচ্ছেদ হয়নি। অন্যদিকে, মনীষা ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দাহালকে বিয়ে করেন। দুই বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হয়।

নানা পাটেকারের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন মনীষা। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, ‘একজন মহান অভিনেতা ও অভিনয়শিল্পের এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার অবদান এবং কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

বৃহস্পতিবার রাতে পুনেতে নিজের খামারবাড়িতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় নানা পাটেকারের। সূত্র: এনডিটিভি

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *