ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সামরিক হামলা চালিয়ে যুক্তরাস্ট্র যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে বলে শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন (তথ্য অনুসন্ধান দল)।
জাতিসংঘ সমর্থিত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের এই প্যানেল জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলা আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের শামিল।
হামলায় টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ও টাংস্টেন পিলেটের ব্যবহার
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্পষ্টত চিহ্নিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
একই দিনে লামের্দ শহরের অপর একটি হামলায় স্পষ্টত চিহ্নিত একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। হামলাটিতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ক্ষতিকর ‘টাংস্টেন পিলেট’ (Tungsten pellets) ছড়িয়ে পড়ে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান প্যানেল এক বিবৃতিতে জানায়: “২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর অনুসন্ধান দল এটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ খুঁজে পেয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে।”
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই ধরনের বেপরোয়া ও নির্বিচার হামলার বিরুদ্ধে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
