২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনা সেনাদের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের স্মৃতি আজও টাটকা। এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল যুক্তরাষ্ট্র। দাবি করা হয়েছে, গালওয়ান সংঘর্ষের মাত্র সাত দিন পরেই ভারত সীমান্তের অত্যন্ত কাছে গোপনে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল চীন। যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষস্থানীয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘের এক সম্মেলনে আমেরিকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা থমাস ডিনানো জানান, ২০২০ সালের ২২ জুন শিনজিয়াং প্রদেশের লপ নুর এলাকায় এই গোপন পরীক্ষা চালায় বেইজিং। এলাকাটি ভারত-চীন সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি। ডিনানোর মতে, আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে চীন ‘ডিকাপলিং’ (Decoupling) নামক এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল। এই পদ্ধতিতে মাটির গভীরে বিশাল গহ্বর তৈরি করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে ভূকম্পনের তীব্রতা কম থাকে এবং কোনো রাডারে ধরা না পড়ে।
গালওয়ান যোগ ও সময়ের গুরুত্ব: ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ানে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। ঠিক তার এক সপ্তাহ পরেই ২২ জুন এই পরীক্ষাটি চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন গোটা বিশ্বের নজর গালওয়ান উত্তেজনার দিকে ছিল, সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছিল চীন। অনেকে মনে করছেন, এটি ভারতের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে।
চীনের প্রতিক্রিয়া: যথারীতি আমেরিকার এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মিথ্যা প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, তারা বরাবরই পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি মেনে চলে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দাবি, আমেরিকা নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে চীনের ওপর মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছে। তবে লক্ষণীয় যে, আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা ‘CTBTO’ জানিয়েছে, সেই সময়ে তাদের যন্ত্রে কোনো পারমাণবিক কর্মকাণ্ড ধরা পড়েনি।
ভারতের জন্য কেন উদ্বেগের? যদি আমেরিকার দাবি সত্যি হয়, তবে তা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় আশঙ্কার কারণ। ১. লপ নুর এলাকাটি ভারতের খুব কাছে হওয়ায় এটি সরাসরি নিরাপত্তার হুমকি। ২. গালওয়ান উত্তেজনার মাঝে এমন পরীক্ষা চীনের চরম আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দেয়। ৩. চীনের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে চীনের হাতে ৬০০-র বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
