বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

গাদ্দাফি পুত্রের শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল, উত্তপ্ত লিবিয়া

February 7, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 38 বার পঠিত

লিবিয়ার প্রয়াত রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার দেশটির বানি ওয়ালিদ শহরে অনুষ্ঠিত এই দাফন অনুষ্ঠানে দেখা যায় মানুষের ঢল।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরটিতে গাদ্দাফি পরিবারের অনুগত অনুসারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত বিদ্রোহে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার দীর্ঘ দেড় দশক পরও তার পুত্রের জানাজায় মানুষের এই উপস্থিতি দেশটির বর্তমান রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনতান শহরে নিজ বাসভবনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে সরাসরি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত করেছে যে, বুলেটের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সাইফের এই অন্তিম বিদায়ে অংশ নিতে লিবিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ছুটে আসেন। জানাজায় অংশ নেওয়া ৩৩ বছর বয়সী ওয়াদ ইব্রাহিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে সির্তে শহর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। সমর্থকদের মতে, সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন লিবিয়ার ভবিষ্যৎ আশা-ভরসার প্রতীক।

উল্লেখ্য, একসময় তাকে মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যদিও সরকারি কোনো পদে তিনি ছিলেন না, তবে লিবিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্তেই তার পরোক্ষ ভূমিকা ছিল।

একসময় সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এমনকি লকারবি বিমান বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে তার ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ২০২১ সালে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

বর্তমানে লিবিয়া রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার এবং অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের অনুগত প্রশাসন দেশ পরিচালনা করছে। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির এই হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *