বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে ফের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২০ সালে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এর একটি গোপন নথিতে দাবি করা হয়, ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগই নয়, বারাকের তত্ত্বাবধানেই নাকি এপস্টিন গোয়েন্দা কার্যকলাপের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলেও ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য গোপন সুত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত এই নথি এপস্টিনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এক গুরুতর সন্দেহকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। সেই সন্দেহ অনুযায়ী, এপস্টিন কি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলের উপকরণ সংগ্রহ করতেন? ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর তারিখের ওই নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মোসাদের সংগ্রহে সমন্বয় রেখে ইপস্টিন বিভিন্ন ধরনের গোপন গোয়েন্দা তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। যিনি এই তথ্য সরবরাহ করেছেন, তিনি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের নথিতে এপস্টিন ও তাঁর আইনজীবি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিটজের মধ্যে হওয়া একাধিক ফোনালাপের বিবরণও উঠে এসেছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, এপস্টিনের সঙ্গে কথা বলার পরপরই ডারশোভিটজের কাছে মোসাদের তরফে ফোন আসত এবং সেই কথোপকথনের বিস্তারিত জানতে চাওয়া হতো। ওই গোপন সুত্রের মতে, এই ধারাবাহিক যোগাযোগ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত গোয়েন্দা অভিযানের অংশ।
ডারশোভিটজ নিজেই একসময় প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে বয়স কম হলে তিনি মোসাদে যোগ দিতে আগ্রহী হতেন। এফবিআই সূত্রে খবর, এই মানসিকতার সুযোগ নিয়েই মোসাদ তাকে তাদের অভিযানে কার্যত নিযুক্ত করেছিল। সব মিলিয়ে ওই গোপন নথিতে জেফরি এপস্টিনকে মোসাদের একজন কো অপ্টেড এজেন্ট হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
