বাংলাদেশ ▣ ই-পেপার
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সেঞ্চুরির অপেক্ষা বাড়ল সাদমানের, দিন শেষে বাংলাদেশ ২১৩/৩

October 28, 2026 Ibrahim Khan Sadat 0 মন্তব্য 32 বার পঠিত

মিরপুর টেস্টে দিনের শুরুতেই উইকেট হারালেও টপঅর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে চাপ সামলে নেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। দেখে-শুনে খেলতে থাকা এই ব্যাটার সেঞ্চুরি পেয়ে যেতেন প্রথম দিনেই। কিন্তু দুবার আলোকস্বল্পতার জন্য বন্ধ হয় খেলা। প্রথমবার ৫০ মিনিট পর মাঠে বল গড়ায় মাত্র ৪ ওভার। দ্বিতীয়বার খেলা বন্ধ হলে শেষ পর্যন্ত দিন শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে অবস্থান করছেন টাইগার ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৯৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। আরেক প্রান্তে ১০ রানে অপরাজিত আছেন লিটন কুমার দাস।

মিরপুরে আজ পেসারদের জন্য শুরুটা ছিল দাপুটে। গতি আর সুইংয়ের মিশেলে সফরকারী পেসাররা বাংলাদেশের ওপেনারদের বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেন। পরে স্পিনাররা এসেও বেশ টার্ন পান উইকেটে। প্রথম সেশনেই তারা তুলে নেন বাংলাদেশের ২ টপঅর্ডারকে। ২ উইকেটে ৯৬ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় টাইগাররা।

ইনিংসে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করা সাদমান ইসলাম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯৫ বলে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দশম এবং ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে চতুর্থ ফিফটি। ৫ চারে বাঁ-হাতি এই ওপেনার ইনিংস সাজিয়েছেন। শান্ত’র বিদায়ে বড় জুটির আশায় থাকা বাংলাদেশ হোঁচটই খেলো বলা যায়। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও সাদমানের ৫৯ রানের জুটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

ওয়ারিকানের বলটি হালকা বাঁক খেয়েছে, তবে স্টাম্প ও ইম্প্যাক্ট লাইনে থাকা ডেলিভারি শান্ত’র পায়ে আঘাত করার পর ‍শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। রোস্টন চেজ রিভিউ নিলে দেখা যায় বল মিডল-লেগ স্টাম্পে গিয়ে লাগত। ফলে ৪২ বলে ১৬ রান করে ফিরলেন শান্ত। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম আউট হন জেইডেন সিলসের অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা বলে কানা লাগিয়ে।

বলটি বেরিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে কাভার দিয়ে খেলার চেষ্টা ছিল তানজিদের (৭)। কিন্তু ব্যাটের কানা স্পর্শ করে সেটি স্লিপে থাকা জাস্টিন গ্রিভসের হাতে জমা পড়ে। ৯ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর সাদমান ও মুমিনুল হকের জুটি স্বাচ্ছন্দ্যেই আগাচ্ছিল। কিন্তু এরপর ধৈর্যচ্যুতি ঘটল মুমিনুলের। হাওয়ায় ভাসানো বল ক্রিজ ছেড়ে মিড-অফে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। কিন্তু ব্যাটে ঠিকঠাক না হওয়ায় সেটি শামার জোসেফকে ফাঁকি দিতে পারেনি। মুমিনুল ৫১ বলে ২৮ রান এবং তার সঙ্গে সাদমানের জুটি ভাঙে ৫৯ রানে।

মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার পর পঞ্চম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন সাদমান ইসলাম। তবে আরেকপ্রান্তে নড়বড়ে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত’র ব্যাট। পরের ওভারেই জোমেল ওয়ারিকানের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। রিভিউ নিলেও কাজে আসেনি, তার বিদায়ে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

চতুর্থ উইকেটে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহিমের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পাওয়া তাওহীদ হৃদয়। ওপেনার সাদমানের সঙ্গে দেখে-শুনেই খেলছিলেন তিনি, ছিলেন অর্ধশতকের কাছাকাছি। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪২ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন হৃদয়। এরপর লিটনকে নিয়ে জুটি গড়ার প্রচেষ্টা চালান সাদমান। কিন্তু জুটিটা বড় হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আলোকস্বল্পতা। দ্বিতীয় দিনের খেলায় আগামীকাল সকালে ফের মাঠে নামবেন এই দুই ব্যাটার।

সংবাদটি শেয়ার করুনআপনার পছন্দের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন
Facebook X WhatsApp Telegram
পাঠকের মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *